বনদস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযানের ‘খেসারত’ দাবি, হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আহ্বান
বনদস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযানের ‘খেসারত’ দাবি, হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আহ্বান
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে বনদস্যুদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা ও মামলা দায়েরের জেরে বন বিভাগের এক ডেপুটি রেঞ্জারের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শুক্রবার মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। শুক্রবার বাদ জুম্মা চুনারুঘাট উপজেলার মিরাশি ইউনিয়নের বড়াব্দা জামে মসজিদের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে শত শত মুসল্লি, স্থানীয় যুবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বনসম্পদ রক্ষায় দায়িত্ব পালনকারী একজন সরকারি কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে বনসম্পদ লুটপাট, মাদক কারবার ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনার দাবি জানান তারা। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সিলেট বন বিভাগের সাবেক ডেপুটি রেঞ্জার এবং বর্তমানে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া রেঞ্জে কর্মরত সৈয়দ আশিক আহমদ (৫৪) চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত হবিগঞ্জ বন বিভাগে কর্মরত অবস্থায় বনদস্যুদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান পরিচালনা এবং মামলা দায়ের করেন। এসব অভিযানের জেরে অভিযুক্ত মিজানুর রহমান সুহাগ দীর্ঘদিন ধরে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত ৫ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নালমুখ- সাটিয়াজুরি সড়ক দিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে মিজানুর রহমান সুহাগ ও তার সহযোগীরা তার গতিরোধ করে। পরে মোটরসাইকেলে ধাক্কা দিয়ে তাকে সড়কে ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয়। হামলার সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয় এবং শার্টের পকেটে থাকা নগদ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে আহত অবস্থায় তাকে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে তিনি চুনারুঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্ত মিজানুর রহমান সুহাগ সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান ও রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্য এলাকায় বনসম্পদ লুটপাট এবং মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ও কিছু অসাধু ব্যক্তির সহযোগিতায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বনসম্পদ রক্ষায় নিয়োজিত কর্মকর্তার ওপর হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ঘটনায় দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং বনাঞ্চলে সক্রিয় অবৈধ কাঠ পাচার ও মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় বন রক্ষা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। তবে বনসম্পদ লুটপাট, মাদক কারবার ও অন্যান্য অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত মিজানুর রহমান সুহাগের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি
। চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, "অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" এ ঘটনায় স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : lifestyledesign847@gmail.com
কমেন্ট বক্স